রাবির একাদশ সমাবর্তন অর্ধেকের বেশি ডিগ্রিধারী অংশ নিচ্ছেন না!

36 Shares

আলী ইউনুস হৃদয়, রাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ নভেম্বর। কিন্তু ছাত্রজীবনের আকাঙ্খিত সমাবর্তনে এবার অর্ধেকেরও বেশি ডিগ্রিধারী অংশ নিচ্ছেন না। অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি, পড়শোনা শেষ করে এখনো চাকরি না হওয়া ও ব্যক্তিগত সমস্যা তাদের অংশগ্রহণ না করার অন্যতম কারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার জানান, একাদশ সমাবর্তনে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারী ৮ হাজার ৮১৪ জন এবারের সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও নিবন্ধন করেছেন ৩ হাজার ৪৩৬ জন গ্র্যাজুয়েট। এরমধ্যে রয়েছে কলা অনুষদের ৬৬৮ জন, আইন অনুষদের ৯০ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ৩৭৭ জন, বিজনেস স্টাডিস অনুষদের ৫০৫ জন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ৫৮৫ জন, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ৩১০ জন, কৃষি অনুষদের ৪২ জন, প্রকৌশল অনুষদের ১৩৫ জন, চারুকলা অনুষদে ৪৩ জন, ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স থেকে ৩ জন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ১ জন, ডিভিএম ৪৩ জন, এমবিবিএস ৫১১ জন ও বিডিএস থেকে ১২৩ জন। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২৮ জন শিক্ষক সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করছেন।

একাধিক ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী বলেন, `অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি’ অংশ না নেওয়ার একটি কারণ। এছাড়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে চাকরি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার অনেকে ব্যক্তিগত সমস্যা ও কাছের বন্ধুরা অংশ না নেওয়ায় নিবন্ধন করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ৫৭০ টাকা দিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।

২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সৈকত রহিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শকের প্রশিক্ষণের জন্য সমাবর্তনে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পড়াশোনা শেষে চাকরি না হওয়ায় পরিচিত অনেকেই সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন না।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন তানিয়াহ মাহমুদা তিন্নি। তিন্নি বলেন, ক্যাম্পাসের পড়াশোনা শেষেই সমাবর্তন হলে হয়তো সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারতো। দুই বছর পড়াশোনা শেষে আমার ব্যাচের তিন-চারজন চাকরি করছে বলে জানি। আর অন্যরা এখনও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে চাকরির পড়াশোনা করছে। একইসঙ্গে এতোবেশি নিবন্ধন ফি‘র টাকা পরিবার থেকে নিয়ে অংশ নেওয়া কঠিন বলেই মনে করি। এইতো আমিই মাসখানেক হবে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানে যাগদান করেছি। নাহলে আমার জন্যও অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে যেতো।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘সমাবর্তনে অংশগ্রহণের অনিচ্ছা প্রকাশের কারণ হিসেবে মনে করি তাদের বেকারত্ব। এরআগে কয়েক বছর পর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক ডিগ্রিধারী নিবন্ধন করেছিলো। কিন্তু এবার ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ডিগ্রিধারীদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। যাদের অধিকাংশ হয়তো এখনো চাকরি পায়নি। আর নিবন্ধন না করার এটাও একটা কারণ হতে পারে।’
নিবন্ধন ফি’র বিষয়ে বলেন, এবার নিবন্ধন ফি আরও বৃদ্ধির কথা চলছিলো। পরবর্তীতে উপাচার্যকে ফি না বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন। এজন্য পূর্বের ন্যায় নিবন্ধন ফি অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবর্তনে ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডিগ্রিধারী ৬ হাজার ১৪ জন অংশ নেন।

36 Shares