নজরুলময় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

মেহেদি জামান লিজনঃ 

ময়মনসিংহ শহরের অদূরে ত্রিশাল উপজলোয় প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবহ নামাপাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি  অঙ্গনেই পাওয়া যাবে কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতি কিংবা কবির উপস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এক কোনে প্রাচীন ও সুবিশাল বটগাছ, যা বটতলা নামে পরিচিত। কথিত আছে এই গাছের নিচে বসেই বাঁশি বাজাতেন কবি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবখানেই কবির ম্যুরাল ছড়িয়ে আছে, আছে কবির ছবি, গান আর কবিতার বাণী। এখানে স্মৃতিস্তম্বের নাম ‘চির উন্নত মম শির’, ক্যাফটেরিয়ার নাম চক্রবাক। অগ্নীবীণা আর দোলনচাঁপা এখানের  আবাসিক হলের নাম। শিক্ষার্থীদের বাসের নাম প্রভাতি, ঝিঙেফুল, বিদ্রোহী, প্রলয়শখিা। মঞ্চের নাম চুরুলিয়া, গাহি সাম্যরে গান। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মেডিকেল সেন্টার নাম “ব্যাথার দান”।

এই ক্যাম্পাসে চলতে ফিরতে, উঠতে বসতে কবির নাম, ছবি আর তাঁর অমর সাহিত্যে কর্মের সঙ্গে প্রতিনিয়ত নতুন করে পরিচিত হয় শিক্ষার্থীয়া। সকাল হলেই নজরুলের গানের সুর শোনা যায়। ক্যাম্পাসে নজরুলের গানের চর্চায়, গানের ধ্যানে থাকেন নজরুল প্রেমী শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলকে জানার ও বোঝার উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। প্রতিটি বিভাগেই বাধ্যতামূলক কোর্স হিসেবে নজরুল স্টাডিজ পড়তে হয়। তাকে নিয়ে উচ্চতর গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’। কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগারে নজরুলের বই নিয়ে আছে আলাদা কর্ণার।

নজরুল উৎসবে দুই বাংলার নজরুলপ্রেমি, নজরুলের গানের শিল্পী, কবি আর নজরুল বিশেষজ্ঞদের পদচারণায় মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসজুড়ে নজরুল-মুগ্ধতার রং আর সুর ছড়ানো থাকে।এক মঞ্চে যখন নজরুলরে জীবন আর কর্ম নিয়ে আলোচনা চলছে, আরেক মঞ্চে তখন হয়ত নজরুলের গান। গ্যালারিতে চলে শিল্পকর্মের প্রর্দশনী। ত্রিশালে নজরুল কেন্দ্রিক উন্নয়ন, ঢেলে সাজানোয় গোটা এলাকার শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় ও অবকাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ নজরুল প্রেমিক ভক্ত-অনুরাগী ও গবেষকদের কাছে এ বিশ্ববিদ্যালয় এখন নজরুলকে নিয়ে গবেষণার চারণভূমি ও পর্যটনের তীর্থস্থান।