দ্যা সার্কেল

14 Shares

তানজিদা আক্তার

‘বন্ধু’ ছোট শব্দটার গভীরতা আকাশ সমান। রোজকার চলার পথে হাসি, কান্না গল্পে তারা ছায়ার মতো সঙ্গ দেয়। আমাদের বেড়ে উঠার অন্যতম সঙ্গী।বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় সার্কেল গড়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। চার বছরের পথ চলাটা কখনো কখনো চলতে থাকে শেষ অবধি।বন্ধু থাকে পরম নির্ভরতায় আর বিশ্বাসে। ক্যাম্পাস জীবনে এটাই তো সবচেয়ে বড় পাওয়া।

বন্ধুত্বে শুরুর ব্যাপারটা গোলমেলে ঝাপসা। কখন কিভাবে কে কার বন্ধু হয়ে ওঠে তা বলা মুশকিল। একসাথে অধ্যায়ন সবাই করলেও সবার সাথে সমান সখ্যতা থাকে না। তাদের মধ্যে যাদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে তাদের ছাড়া আড্ডা জমে না, ঘুরতে ইচ্ছে করে না, তাদের ফেলে খাওয়া হয় না।

মন খারাপ হোক,পড়া বুঝি না, কোন ঝামেলা, আর্থিক টানা পোড়ন! বন্ধু আছে,ভাবনা কি। বন্ধুরা হলো একটা স্বচ্ছ আয়না তাদের বলতে হয় না, বোঝাতে হয় না, অনুরোধ করতে হয় না,তবু বুঝে যায় মনের কথা।

ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র সবার, তবু টানটা আত্মার। কেউ গায়ক, তো কেউ আর্টিস্ট। কারো আগ্রহ রন্ধন শিল্পে, কেউ বা আবার সাংবাদিক। সবারই আছে কোন কোন নিজস্ব নাম। ডাক নাম ছাপিয়ে সে নামেই বরং তারা পরিচিত খুব।

সব কিছু ছাপিয়ে আমরা বন্ধু ভীষণ। পহেলা বৈশাখে রঙ তুলি নিয়ে বসে পড়েছি,আলপনা আঁকছি কাপড়ে।সবার একই রকম পোশাক পড়া তো চাই চাই। কখনো বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করছি। পাশাপাশি সুযোগ পেলেই কাজ করেছি সংগঠনের হয়ে। মন ছুটে গেলেই দল বেঁধে ঘুরেছি। পড়াশুনা করেছি। বৃষ্টির জলে ভিজেছি কতোবার।চা আড্ডায় ঝড় তুলেছি হাজারো। হাতে হাত রেখে গেয়েছি একসাথে

“তোরা ছিলি, তোরা আছিস, জানি তোরাই থাকবি, বন্ধু- বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কী লাগে?’

বিদায় বেলায় তাদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্টটাই ছিলো বেশি। চার বছর, অনেক গুলো মাস দিন ঘন্টা আমাদের এক সাথে কেটেছে। পরিবারের বাইরে আরেক সংসার।রোজকার অসংখ্য অনু ঘটনা জুড়ে দিলে ছবি গল্প তৈরী হবে। সেসব গল্পদের তারা নানা রঙ দিয়ে রাঙিয়েছে।বিপদে সবার আগে ছুটে এসেছে। হাত ধরে বলেছে,আমরা আছি। এদের ছেড়ে থাকা কি সহজ?

বন্ধুদের জন্য কি করতে পারি প্রশ্নের উত্তরে এটাই বলতে চাই শুধু।বন্ধুর জন্য সবচেয়ে সুন্দর যে ব্যাপারটা আমি করতে পারি তাহল একদম শেষ পর্যন্ত বন্ধু হয়ে থাকা। তাদের দেয়ার মতো এর চেয়ে দামি কিছু আমার নেই।

* কৃষি বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

14 Shares