টিউশনের টাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ড্রোন

23 Shares
তানজিদ সফি অন্তর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়   
সময়টা ২০১৫ সালের মাঝামাঝি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২য় ব্যাচের (বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ) ২ জন শিক্ষার্থী সৈয়দ রাগিবুল হক এবং আবু নাঈম ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা করলেন, বিভাগের তৎকালীন সহকারী অধ্যাপক মোঃ কামাল হোসেন স্যার এবং প্রভাষক শরীফুল ইসলাম স্যার অনুপ্রেরণায়। কিন্তু ছোট বিশ্ববিদ্যালয়, সুযোগ কম প্রতিকূলতা বেশি। তাদের সাথে যোগ হলো বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের তানজিদ সফি অন্তর। অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ফান্ডিং এর ব্যবস্থা হলো না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তখনও প্রযুক্তি  নির্ভর কাজ করে না। কোন সংগঠনও তখন ছিলো না। অনেকে আশ্বাস দিলেও তার প্রতিফলন ঘটে না। ফান্ডিং এর ব্যবস্থা না হওয়ায়, তাদের সাথে আরও ২ জন যুক্ত করা হলো। বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের একেএম আকিব এবং ৫ম ব্যাচের আব্দুল হান্নান সজীব। তারা ৫ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিলো তাদের টিউশনের টাকা থেকে ৮০০০/- করে দিয়ে ৪০০০০ টাকার একটা ফান্ড করবে। যেই পরিকল্পনা সেই কাজ। এভাবেই ৫ জন তরুণের টিউশনের টাকায় তৈরি হলো “এডভেঞ্চার” নামক দলের। আমি সেই দলের একজন গর্বিত সদস্য।ফান্ডিং হলেই ড্রোন তৈরি হয় না। আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা হলো কিন্তু সেগুলো এসেম্বলিং করার জন্যে ল্যাব নাই। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তখন মাত্র দুইটা ল্যাব। দুইটাতেই নিয়মিত ক্লাস হয়। এমনকি মাঝে মাঝে একাডেমিক ক্লাসও, ল্যাবে নিতে হতো। তাই, সেই ল্যাব আমরা ব্যবহার করার সময় কিংবা সুযোগ পেলাম না।
এমতাবস্থায়, আমাদের রাগিব ভাইয়ের এক টিউশন স্টুডেন্ট এর বাসায় কাজ করার অনুমতি নিলাম। বন্ধের দিনগুলোতে আমরা সেখানে গ্রুপ স্টাডি এবং ল্যাবের কাজ করতাম। এসময় আমাদের সাথে আরেকজন তরুণ সঞ্জিত মন্ডল যুক্ত হয়।
কিন্তু এর মাঝেই সরকার ড্রোন উড়ানোর সীমাবদ্ধতা করে দিলেন। ড্রোন উড়ানোর জন্যে আমাদের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির অনুমতি নিতে হবে। প্রশাসনকেও জানাতে হবে। আমরা কয়েকবার দরখাস্ত করলাম। কিন্তু তাদের রেসপন্স পাই নি। আমাদের স্বপ্ন তখন মাঝ দরিয়ায় হাবুডুবু খাচ্ছে। বছরখানেক আমাদের কার্যক্রম স্থগিত ছিলো। তখনই আমাদের বিভাগের বর্তমান অধ্যাপক আবু তাহের স্যার আমাদের সাহায্য করলেন। স্যার, নিজে মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করলেন। আমাদের, ভিসি স্যারের সাথে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করে দিলেন। ভিসি স্যার, আমাদের আশ্বস্ত করলেন যে আমরা ক্যাম্পাসে ড্রোনের ফ্লাইং টেস্ট করতে পারবো। তাহের স্যার এবং বিভাগের চেয়ারম্যান সজল চন্দ্র মজুমদার স্যার বিভাগের ল্যাবে কাজ করবার ব্যবস্থা করে দিলেন। ক্লাসের শেষে, ছুটির দিনে নতুন উদ্যমে আমরা কাজ শুরু করলাম। নিজেদের টিউশনের টাকা আবারও আমাদের স্বপ্নে বিনিয়োগ করলাম।
আমরা বিশ্বাস করি, যারা স্বপ্ন দেখতে জানে তারা হার মানতে জানে না। আর স্বপ্নটা যদি মানুষের কল্যাণে, দেশের কল্যাণে হয়, তাহলে সৃষ্টিকর্তাও রহমত করে।
আমাদের স্বপ্নের ড্রোন আজ কুবির আকাশে আনুষ্ঠানিকভাবে উড্ডয়নের অপেক্ষায়।
23 Shares