অহেতুক নয় প্রয়োজনীয় সংবাদ জানাবে সফটওয়্যার; বাঁচবে সময়

5 Shares

৥ ক্যাম্পাস ডেস্কঃ

ইন্টারনেটের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধির সাথে সাথে অনলাইনে তথ্যের ভান্ডার প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে সেই সাথে বাড়ছে বাংলা অনলাইন পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন ব্লগ। অনলাইনে কোন অল্প বিষয়ে জানতে পড়তে হয় বিস্তারিত অপ্রাসাঙ্গিক লেখা। আবার কোন একটি খবর প্রয়োজনীয় কিনা তা জানতেও অযথা সময় ব্যয় হয়, মোটের উপর তাতে ব্যয় হয় অনেক কর্মঘন্টা। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়কে আমলে নিয়ে তার সমাধান বের করার জন্য মোঃ মাজহারুল হক শুরু করেন গবেষণা।

শিরোনাম দেন “A New Approach of Bangla News Document Summarization”। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের এই গবেষক তার পিএইচডি গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাংলা নিউজ ডকুমেন্টের সারাংশ তৈরি করার জন্য ডেভেলপ করেন একটি সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ খবরের মধ্যকার এক তৃতীয়াংশ গুরুত্বপূর্ণ বাক্য তুলে নিয়ে আসবে যা পড়েই যে কেউ খবরটি সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পাবে। এতে অনেক মূল্যবান সময়ের অপচয় হতে রক্ষা পাবে যা দেশ এবং দেশের মানুষকে এগিয়ে নিতে সরাসরি প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

মাজহারুল ইসলাম জানান কেন তিনি কাজটি শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমরা যদি ধরে নেই যে বাংলাদেশের প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন অনলাইনে পত্রিকা পড়েন তবে প্রায় ১ কোটি মানুষ অনলাইনে পত্রিকা পড়েন। উক্ত সিস্টেম প্রতিটি নিউজ ডকুমেন্ট পড়ার ক্ষেত্রেই সময়ের সাশ্রয় করবে যা বর্তমান প্রয়োজনীয় সময়ের প্রায় অর্ধেক বা তারও কম (যেহেতু প্রায় এক তৃতীয়াংশ নিয়ে সারাংশ তৈরি হবে)। জনপ্রতি পত্রিকা পড়তে যদি ৩০ মিনিট সময় দৈনিক ব্যয় হয় তবে নতুন সিস্টেমের ফলে তা সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটে নেমে আসবে।

তার দাবি `এভাবে চিন্তা করলে ১ কোটি মানুষের জন্য সময় বাঁচবে ১৫ কোটি মিনিট যা সময়ের হিসেবে ২৮৫ বছর প্রায়।’ তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে স্মার্ট ফোন থেকে শুরু করে যে কোন ধরণের কম্পিউটার কিংবা ট্যাবে ইন্টারনেট ব্রাউজারে। এর জন্য দরকার হবে না বিশেষ কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করার। সেবাটি পাওয়া যাবে অনলাইন ভিত্তিক।

গবেষক মোঃ মাজহারুল হক কুমিল্লা জেলার সদর থানার দুর্গাপুর গ্রামের ছেলে। বাবা মৃত মোঃ নুরুল হক এবং মা মোসাঃ জাহান আরা বেগম। গ্রামের আলেকজান মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০০০ সালে এইচএসসিতে প্রথম বিভাগ পেয়েছেন। ২০০৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ থেকে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক এবং ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলোজি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। গত বছরের ৩০ জানুয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তার কাজের সম্মাননা স্বরূপ তাকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে এসিস্ট্যান্ট সিস্টেমস এনালিস্ট (ডেপুটি ডিরেক্টর) হিসেবে কর্মরত। তার বিশ্বাস ‘এ কাজে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, সহযোগিতা পেলে বাংলা ভাষা প্রসেসিং নিয়ে গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা যাবে। যা বিশ্বের দরবারে আমাদের মাতৃভাষা সমৃদ্ধ ও সমুচ্চ মর্যাদায় অবস্থান নিতে সহায়ক হবে।’

গবেষণা কাজটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন প্রফেসর ড. সুরাইয়া পারভীন এবং প্রফেসর ড. জেরিনা বেগম। বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ গবেষণা কর্মটির জন্য মোঃ মাজহারুল হককে তিন বছরের ফেলোশিপ হিসেবে প্রায় চৌদ্দ লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করেন।

এর মধ্যে তার এই গবেষণা কর্মটির অংশ বিশেষ “জার্নাল অব ইনফরমেশন প্রসেসিং সিস্টেম” (Journal of Information Processing Systems) নামের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়াও একটি দেশীয় কনফারেন্স, একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স (IEEE TENCON, Singapore) এবং একটি আন্তর্জাতিক জার্নাল পেপার (অ্যামেরিকায়) হিসেবে গবেষণা কর্মটি প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলা ভাষা প্রসেসিং নিয়ে গবেষণা করা অনেক সমস্যাপূর্ণ বিষয়, এখানে ইংরেজির মত ব্যবহার্য অটোম্যাটিক ট্যুলস নেই, পরামর্শ করা যাবে এমন গবেষকের অভাব, সমন্বয়ের অভাব, রয়েছে ব্যাকরণগত জটিলতা, নেই কোন যথাযথ স্বীকৃত ডাটা-সেট, যাতে গবেষণাকর্ম মূল্যায়ন করা যাবে। এমনকি ইংরেজি ভাষা সংক্রান্ত গবেষণাকর্ম বাংলা ভাষায় প্রয়োগ করারও তেমন সুযোগ নেই।এগুলো সামলেই এগিয়ে যেতে চান ড. মাজহারুল হক।

5 Shares