স্মৃতিচারণ: ক্যাম্পাসের প্রথম দিন

তানজিদা আক্তার চয়ন, নোবিপ্রবিঃ 

ক্যাম্পাস জীবন।এক স্বপ্নের নাম।স্কুল, কলেজে পড়ার সময় থেকে আমরা স্বপ্ন দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। স্বপ্ন ছোঁয়ার পথচলাটা বেশ ঝক্কিঝামেলার। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে রীতিমতো ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আসতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও মাত্র অল্প কয়েক জনই পারে ভর্তি হতে।ভর্তিযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিন ক্লাস করতে আসার  অনুভূতিটা একজন শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস জীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে যায়।কেমন ছিলো  ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম দিন টুকু,সুখ-দুঃখ, হাসি-তামাশা নাকি  তিক্ততার?  প্রথম বার ক্যাম্পাসে ঢুকার অনুভূতি শুধু ভাল লাগার।আহা! এ ক্যাম্পাসটা আমারও। আজ থেকে একশ এক একরে আমারও খানিকটা অধিকার রইলো।

ভালা লাগাকে পাশ কাটিয়ে ভয়ও ছিল অনেক। নতুন পরিবেশ, কই থাকবো, ক্লাস কেমন হবে, সবার সাথে মিশবো কিভাবে এরকম কত শত প্রশ্ন যে মাথায় জট পাকাচ্ছিলো।

আমাদের প্রথম ক্লাস শুরুর তারিখটি এখন মনে করতে পারছি না। তবে সেদিন আমাদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস ছিল।  তাই সকাল সকাল ই ক্যাম্পাস চলে আসি।চার দিকে সব অপরিচিত মুখ। কে যে সিনিয়র কে ব্যাচমেট বুঝার সাধ্য কই। কৃষি ডিপার্টমেন্টে গিয়ে দেখি অনেক ছেলে মেয়ে ঝটলা বেধে আছে। সবাই অপেক্ষা করছে।

সবগুলো মুখই অপরিচিত। কাউকেই চিনি না। তার পর ধীরে ধীরে আমরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলা শুরু করলাম।আপনি, তুমি, তুই তে চলে আলাপচারিতা।

কি নাম, কোথায় থেকে এসেছি? আর এভাবেই বন্ধুত্বের শুরু।

একটুপরই আমাদের ক্লাসরুমে যেতে বলা হয়। ক্লাসরুমে ঢুকেই মন টা আনন্দে ভরে গেলো। কি সুন্দর করে সাজানো রুম। রঙ বেরঙ বেলুন, ফুল, কার্ড দিয়ে আপু ভাইয়ারা  আন্তরিক ভালবাসা দিয়ে বরণ করে নিলেন আমাদের। তাদের আন্তরিকতায় ভয়ের যে অনুভূতিটা ছিলো সেটাও একটু পরই কেটে গেলো। আপু ভাইয়ারা আমাদের সবার সাথে পরিচিত হলেন, শিখালেন কীভাবে ক্যাম্পাসে পরিচয় দিতে হয়। আমরাও একে একে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছিলাম।সবার সঙ্গে পরিচয়ের পর খুব অবাক লাগছিল জেনে যে,এক জায়গায় কত জেলা ও শহরের মানুষ আমরা একত্রিত হয়েছি।

বিভাগের শিক্ষকরাও সেদিন উপস্থিত ছিলেন। সবার সঙ্গে পরিচিত হলেন,  সেসঙ্গে একাডেমিক কার্যাবলি, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলি ও পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কেও ধারণা দিলেন আমাদের। এখানেই কিন্তু শেষ ছিলো না, আরও ছিল কুইজ সহ বেশ মজার মজার পর্ব।আমাদের ভিতর অনেকেই গান গেয়ে শোনালো, অভিনয়, কৌতুক তো ছিলোই। কেউ কেউ জানালো তাদের রঙিন সব স্বপ্নের কথা।

ক্লাস শেষে আমরা অনেকেই দল বেঁধে ক্যাম্পাস ঘুরতে বের হয়েছিলাম।এক দল অচেনা মানুষদের সাথে নিয়ে একশ এক একরে পথচলার প্রথম দিন।এখন আমরা সবাই বন্ধু। তাদের ছাড়া এখন ক্যাম্পাসে দিন যেন কাটেই না। ক্যাম্পাসের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত সব জায়গায়ই আমাদের পদচারণা।ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার, শিক্ষক ডরমেটরির রাস্তাটা,পার্ক, লাইব্রেরি,নীলদীঘি এসব জায়গায় বসে বলা শুরু হয়েছিল একেক জনের জীবনের গল্প। আমাদের এসব ছোট ছোট অনুগল্প জুড়েই তো ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম দিনের গল্পের সূচনা।