বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা

এক।।
সমুদ্রের তীরে বসে দীর্ঘ সময় রাতের খোলা নীল আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে ঘাড় ব্যথা করে ফেলেছি, কিন্তু কোন রমণীর সুন্দর মুখ তো অনেক দূরের কথা, কোন রমণীর কায়াটুকুও খুঁজে পাইনি, একইভাবে বৃক্ষরাজির পাশে বসে বহুবার রাতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি, কোনো এলোকেশী নারীর এলোকেশ তো অনেক দূরের কথা, উড়ে আসা ধান গাছের কোনো শুকনো খড়ও দেখতে পাইনি, কারণ প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের গবেষণা করার আগ্রহ বা দক্ষতা কোনোটাই আমার মধ্যে জন্মাতে পারিনি। তাই আমি চাঁদকে চাঁদই দেখি, আর গাছকে গাছই দেখি। আমার এ ব্যার্থতার উপমা দেয়ার একটিই কারণ, সেটি হলো প্রকৃতি ও প্রকৃতির কথা, জীবন ও জীবনের কথা, মানুষ ও মানুষের কথা, সমাজ ও সমাজের কথা, ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ের উপর যিনিই গবেষণা করুন না কেন, তিনিই গবেষক, তিনিই সত্য ও সুন্দরের সাধক।

বিজ্ঞান ভিত্তিকই হোক বা শিল্পকলা ভিত্তিকই হোক, আজ যে গবেষণালব্ধ তথ্য সঠিক বলে গ্রহণ করা হয়েছে, কালকে যে সেটি ভুল বলে প্রমাণিত হবে না, সেটা কেউই বলতে পারে না। গবেষণার ফল যাই হোক না কেন, সত্যিকারের গবেষণা মস্তিস্ককে শানিত করে এবং সেই সঙ্গে সময় উপযোগী জ্ঞান দান করে। এই শানিত মস্তিস্ক আর সময় উপযোগী জ্ঞান দ্বারা যিনি শিক্ষার্থীকে পাঠ দান করেন তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে। এ জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতিতে গবেষণামূলক প্রবন্ধদের সংখ্যা শর্ত হিসেবে বিবেচণা করা হয়, কলেজ শিক্ষকদের পদোন্নতিতে তা করা হয় না, এটাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা অন্যতম পার্থক্য।

তাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বা গবেষণার কোনো পরিবেশ নেই, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায় কিনা – এ প্রশ্ন আমার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষতেও থাকবে, যে পর্যন্ত না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন।

দুই।।

অনেক বিশ্লেষক (যদিও আমার মতে শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মানদন্ড নির্ণয়ে শিক্ষার্থীরাই বড় বিশ্লেষক) গবেষণা ও পাঠদানের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চার ভাগে ভাগ করে থাকেন: ক. ভালো গবেষক এবং ভাল শিক্ষক; খ. ভালো গবেষক, কিন্তু ভাল শিক্ষক নন; গ. ভালো গবেষক নন, কিন্তু ভাল শিক্ষক; ঘ. ভাল গবেষকও নন, আবার ভাল শিক্ষকও নন।

প্রথম ক্যাটেগরির শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্যাটেগরির শিক্ষকদের নিয়ে আমার কিছুটা হলেও ভিন্ন মত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে চাই: ব্যক্তি বিশেষে উপস্থাপনা ভিন্নতর হলেও, সত্যিকারের একজন ভাল গবেষক চাইলে ভাল শিক্ষক না হয়ে থাকতে পারে না, কারণ তাঁর রয়েছে শানিত মস্তিস্ক ও সময় উপযোগী জ্ঞান। ভাল শিক্ষক ও ভাল গবেষক, একে অপরের পরিপূরক। তাই, ভাল শিক্ষক অবশ্যই একজন ভাল গবেষক যদি না তিনি সময় উপযোগী জ্ঞান অর্জনে ক্লান্ত না হয়ে পরেন। চতুর্থ ক্যাটেগরির একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধুই ‘বোঝা’। কীভাবে এবং কেন এই ‘বোঝা’ কম-বেশি আমাদের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েই চলছে তার কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই শুধু নয়, সকল সচেতন নাগরিকই অনুধাবন করতে পারেন বলে আমার বিশ্বাস।

কর্মচারী/কর্মকর্তা নিয়োগে আমার মত অনেক শিক্ষকেরই তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগে যখন মেধা ও গবেষণার (শানিত মস্তিষ্কের) তেমন কোনো স্থান দেয়া হয় না, তখন অধিকাংশ শিক্ষকই দারুণভাবে মর্মাহত হন, সেই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। কারণ এ ধরনের শিক্ষক নিয়োগে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানই কমায় না, সেই সঙ্গে আমাদের প্রিয় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিযোগিতায় নামতে দারুন ভাবে নিরুৎসাহিত করে।

আমাদের একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, শিক্ষার্থীদের জন্যেই শিক্ষক, শিক্ষকদের জন্যে শিক্ষার্থী নয়। এ অনুধাবন থেকেই ২০১২ সনে আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সম্মানিত শিক্ষক ও সহকর্মীগন আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত করেছিলেন এবং সেই সঙ্গে তৎকালীন শিক্ষক-নির্বাচিনী বোর্ডের সভাপতি অর্থাৎ তৎকালীন উপাচার্যকে (অত্যন্ত দূরদর্শী ও উচ্চশিক্ষাবান্ধব মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীর সহযোগিতায়) পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন। এ অপ্রাসঙ্গিক কথাটি বলার উদ্দেশ্যে হলো চতুর্থ ক্যাটেগরির শিক্ষক যে কয়েকটি স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে, তার একটি (ব্যাক্তিগত স্বার্থ) পূরণ হলেও বাকি কোনোটাই পূরণ হয় না বলে অন্তত আমি মনে করি।

জাতীয় স্বার্থ ও শিক্ষা/গবেষণার মান রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ ক্যাটেগরির শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের কোনো বিকল্প নেই, আর তার জন্যে আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ/দশ মিনিটের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যামে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মৌলিক পরিবর্তন। এ জন্যে দরকার নতুন, গঠনমূলক ও নিরপেক্ষ নীতিমালা (এ বিষয়ে সময়-সুযোগ পেলে কিছু লিখার ইচ্ছে রয়েছে)। আমার জানা মতে বেশ কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া রয়েছে যেখানে চতুর্থ ক্যাটেগরির শিক্ষক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অন্য সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ/দশ মিনিটের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার তুলানায় অনেক ভালো। কারণ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও নির্বাচনী বোর্ডের অস্বচ্ছতার প্রভাব থাকতে পারে বলে আমার মনে হয় না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ/দশ মিনিটের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যামে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও নির্বাচনী বোর্ডের অস্বচ্ছতার প্রভাব (যে কোনো স্বার্থেই হোক না কেন) মুক্ত আছে কি? এ প্রশ্ন আমার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষতেও থাকবে যে পর্যন্ত শুধু পাঁচ/দশ মিনিটের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যামে শিক্ষক নিয়োগ চলতে থাকবে।

এটা সকলেই আনন্দের সাথে স্বীকার করবেন যে আমাদের বর্তমান সরকার এতই উচ্চশিক্ষাবান্ধব যে উচ্চশিক্ষার্থে নবীন শিক্ষক/গবেষক/সরকারী-কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্কলারশিপ/ফেলোশিপের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ডলার বিদেশে পাঠাতেও কার্পণ্য করছে না। কিন্তু হতাশ হই যখন দেখি নিজর চেষ্টাই অত্যান্ত সম্মানজনক স্কলারশিপ নিয়ে উন্নত দেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের ছলে-বলে-কলে-কৌশলে বাদ দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রিহীন ও তাদের চেয়ে অধিকতর কম মেধাবীদের (স্নাতক/স্নাতোকোত্তর রেজাল্ট ও গবেষণা কর্মের ভিত্তিতেও) পাঁচ/দশ মিনিটের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যামে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এটা কি সরকার নীতি বিরুদ্ধ ও আমাদের মত একটি দেশের জন্য অর্থের অপচয় নয়? এটা কি উন্নত দেশ থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের পরোক্ষভাবে উন্নত দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা নয়? এটা কি মেধা পাচারকে সহায়তা করা নয়? এ প্রশ্ন আমার সকল বিশ্ববিদ্যালয-শিক্ষক নিয়োগ কর্তাদের কাছে থাকলো।

তিন।।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের (যার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান নির্ভরশীল) কথা উঠলেই সকল বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর জানা একটি ইতিহাস মনে পরে যায়: বিজ্ঞানী থমসন সর্বপ্রথম এটম সম্পর্কে বলেন, এটম হলো একটি পজিটিভলি চার্জড গোলক যার মধ্যে ইলেক্ট্রন বিছানো রয়েছে। কিছুকাল পরে তাঁর ছাত্র, রাদারফোর্ড তাঁর বিখ্যাত আলফা-কণা পরীক্ষার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন, তাঁর শিক্ষক (থমসন) যা বলেছেন তার মধ্যে একটু ত্রুটি রয়েছে, তা হলো এটম এর কেন্দ্রে রয়েছে পজিটিভলি চার্জড গোলক (নিউক্লিয়াস) আর বাহিরের বিভিন্ন স্তরে রয়েছে ঘূর্ণায়মান এক বা একাধিক ইলেক্ট্রন। এরও কিছুকাল পরে আবার তাঁর ছাত্র (Bohr) তাঁর শিক্ষকের (রাদারফোর্ডের) এটম মডেলে কিছু সীমাবদ্দ্বতা খুঁজে পান, এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে এই সীমাব্ধতাগুলো দূর করে অনেকটাই সঠিক এটম মডেল প্রদান করেন। এখানে উল্লেখ্য যে থমসন, রাদারফোর্ড এবং Bohr তিনজনই (শিক্ষক, ছাত্র, এবং নাতী-ছাত্র) নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এ ইতিহাস নিয়োগকর্তাদের এই শিক্ষাই দিচ্ছে যে রাদারফোর্ডের মত ছাত্র পেতে চাইলে থমসনের এর মত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে এবং Bohr এর মত ছাত্র পেতে চাইলে রাদারফোর্ডের এর মত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগকর্তাদেরই ঠিক করতে হবে তাঁরা কাদের চান। এ ইতিহাস শুধু নিয়োগকর্তাদেরই শিক্ষা দেয় না, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং গবেষণারত শিক্ষার্থীকেও স্বপ্ন দেখায়, শিক্ষক যদি থমসন হন, তাঁর ছাত্রকে হতে হবে রাদারফোর্ড এবং শিক্ষক যদি রাদারফোর্ডের হন তাঁর ছাত্রকে হতে হবে Bohr।

আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষক তখনই একজন সত্যিকারের শিক্ষকে পরিনত হতে পরেন, যদি তিনি তাঁর শিক্ষকতা ও গবেষণাকে পেশা থেকে নেশাতে পরিনত করতে পরেন। তাই সত্যিকারের একজন শিক্ষক বা গবেষক কখনোই, কোনোভাবেই অর্থ বা পদলোভী হতে পারেন না। ইসরাইলের প্রথম প্রেসিডেন্ট মৃত্যুর পর ওই দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আইনস্টাইনকে ইসরাইলের রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু আইনস্টাইন একটি দেশের রাষ্ট্রপতির পদ গ্ৰহণ করতে অসম্মতি প্রকাশ করে লেখেন, “আমাদের ইসরাইল রাজ্যের আমন্ত্রণ আমার হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে, কিন্তু একইসঙ্গে আমি দু:খিত ও লজ্জিত এই জন্যে যে আমি এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারিলাম না, কারণ আমার বাস্তব জীবনের কোন অভিজ্ঞতাও নেই, আর মানবজাতির সাথে মেলামেশা করার দক্ষতাও নেই”। তাই বলে এই মহাবিজ্ঞানী কোনো অন্যায়, অবিচার, অশান্তি, ইত্যাদি ঘটতে দেখে নীরব থাকেননি। এ প্রসঙ্গে এই মহাবিজ্ঞানী একটি প্রশ্ন রেখেছেন, “মৃত্যুর যন্ত্রনার চেয়ে আমরা যা বিশ্বাস করি না তা মেনে নেয়ার যন্ত্রনা বেশি নয় কি?” মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের এ প্রশ্নটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিবেকের কাছেও রইল।

চার।।
গবেষণা কী এ প্রসঙ্গে অতি সংক্ষেপে কিছু কথা উপস্থাপন করছি:
 গবেষণা হলো সত্য ও সুন্দরের সন্ধান যা একমাত্ৰ সত্য ও সুন্দর পথ ধরে পরিচালনা করা সম্ভব; 
 গবেষণা মস্তিস্ককে শানিত করে ও সময় উপযোগী জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে world class research করতে বা করাতে সহায়তা করে, এবং সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সময় উপযোগী বিশ্বমানের পাঠদানে সহায়তা করে;
 বিজ্ঞান বা শিল্পীকলাভিত্তিক গবেষণা প্রকৃতির অপার সৌন্দার্য্য ব্যাখ্যা প্রদানে সহায়তা করে;
 বিজ্ঞান বা শিল্পীকলাভিত্তিক গবেষণা অতীতে যা ঘটে গেছে, বর্তমানে যা ঘটছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানে সহায়তা করে।
 যে গবেষণা মস্তিস্ককে শানিত করে না বা সময় উপযোগী জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে না, তা গবেষণা নয় বরং অন্য উদ্দেশ্যে বা স্বার্থ উদ্ধারের নিমিত্তে কিছু লিখা মাত্র।

গবেষণা কী অতি সহজভাবে বোঝানোর জন্য সকলের দেখা দুটি সাধারণ দৃশ্য উল্লেখ করছি। প্রথমে রয়েছে শব্দের বেগের চেয়ে বেশি বেগে চলমান একটি Aircraft এর দৃশ্য, তারপর রয়েছে পানিতে naturally সৃষ্ট ঢেউয়ের বেগের চেয়ে বেশি বেগে সাঁতা কাটা অবস্থায় একটি হাঁসের দৃশ্য।

এই চলমান Aircraft এবং হাঁসের পিছনে যে ত্রিমাত্রিক বা দ্বিমাত্রিক কোন [যাকে Mach কোন বলা হয়ে থাকে যেহেতু বিজ্ঞানী Mach এই কোণের ধারণা প্রথম দিয়েছিলেন) তৈরি হয়েছে, তার যেমন রয়েছে শিল্প-কলাভিত্তিক বর্ণনা, তেমনি রয়েছে বিজ্ঞান-ভিত্তিক গবেষণা, কারণ যেই কঠিন, তরল গ্যাস বা প্লাজমা মাধ্যমে (বস্তু বা প্রাণী কর্তৃক) এই ত্রিমাত্রিক বা দ্বিমাত্রিক কোণের সৃষ্টি হয়, তা পরিমাপ করে সেই মাধ্যমের বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিরুপন করা সম্ভব। ২০০৪ সনে আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির একটি অতি উচ্চ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর (৮.৮) জার্নালে প্রকাশিত আমাদেরই একটি বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ [Mamun et al.: Phys. Rev. Lett. 92, 095005 (2004)] একটি বিশেষ মাধ্যমের অজানা বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিরুপন করে বিষয়টি প্রমান করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে: এ বিশ্বে বড় বড় যত আবিষ্কার হয়েছে, তার সিংহভাগই হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষার্থী কর্তৃক।

একজন নবীন শিক্ষক সৎ পথে থেকে ভাল গবেষণার পাশাপাশি, পাঠ দান, সততা, আদর্শ, মানবতা, নিরপেক্ষতার, ইত্যাদির মাধ্যমে তাঁর শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করে তাদের আইডল (idol) হওয়াই উচিৎ তাঁর স্বপ্ন। শিক্ষার্থীদের মানবতাবোধ জাগ্রত করা, দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, এবং অর্থবহ জীবন গঠনের স্বপ্ন দেখানো শিক্ষকদেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে অন্তত আমি মনে করি। শিক্ষক নিজে যা লালন করেন না, তা শিক্ষার্থীদের লালন করার উপদেশ দেয়া ব্যার্থ প্রচেষ্টা মাত্র। তাই আমাদের একটি কথা অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে একজন শিক্ষক তাই বলবেন, তিনি নিজে যা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। এটা না করলে একজন শিক্ষক ও তথাকথিত রাজনীতিবিদকে আমি অভিন্ন মনে করি।

পাঁচ।।
গবেষণা কর্ম নিয়ে একটি প্ৰশ্ন প্রায়ই উঠে আসে, সেটি হলো: গবেষণা কর্মের গুণগতমান না পরিমানগতমান কোনটি বেশি গুরুত্বের দাবিদার? অনেকে মনে করেন গুণগতমান, আবার অনেকে মনে করেন পরিমানগতমান। আমি এ দুটিকেই সমান গুরুত্বের চোখে দেখে থাকি। আমার দাবির স্বপক্ষে আমি কিছু যুক্তি উপস্থাপন করছি:
 দুপুরের খাবার হিসেবে এক চামচ অতি উন্নতমানের বাসমতি চালের ভাত না এক প্লেইট মিনিকেট চালের ভাত বেশি গুরুত্তপূর্ণ? দুপুরের খাবারের জন্যে এক প্লেইট মিনিকেট চালের ভাত বেশি গুরুত্তপূর্ণ নয় কি?
 ৩৫ থেকে ৪০ বছরের কর্মজীবনে উন্নতমানের সময় উপযোগী পাঠদানের জন্য, কয়েকবার নাকি প্রতিনিয়ত আমাদের মস্তিস্ক শানিত করা প্রয়োজন? আমরা সকলেই স্বীকার করতে বাধ্য যে সময় উপযোগী তথ্য-উপাত্ত্ব দ্বারা যত বেশি বার আমাদের মস্তিস্ক শানিত করব, আমরা শিক্ষার্থীদের তত বেশি উন্নতমানের পাঠ দানে সামর্থ্য হবো।
 কোন গবেষকের অনেক গবেষণা কর্মের মধ্যে কোন গবেষণা কর্ম যে তাঁকে তাঁর গবেষণা ক্ষেত্রে একটি বিরাট জায়গা করে দিবে তিনি তা নিজেও জানেন না।
 ইচ্ছে করলে কেউ বেশি প্রবন্ধের অধিকারী গবেষককে বেশি সন্তান প্রসবকারী ইতর প্রাণীর সাথে তুলনা করতে পারেন যদি তাঁর গবেষণা কর্মের মানদণ্ড (যা নিম্নে বর্ণিত হলো) শূন্যের কুঠায় থাকে।
আমাদের নবীন শিক্ষক ও তাঁদের অধীনে গবেষণারত শিক্ষার্থীদের (যাঁরা world class research করতে আগ্রহী) জন্যে গবেষণা কর্মের মানদণ্ড (যেমন citation number, impact factor, impact points, h-index এবং i10-index) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু ধারণা প্রদানের চেষ্টা করছি:
 citation number: কোনো গবেষকের একটি গবেষণা কর্ম যত বার অন্য গবেষণা কর্মে cited হয়েছে তাকে ঐ গবেষণা কর্মের citation number বলে। একজন গবেষকের প্রতিটি গবেষণা কর্মের citation number এর যোগ ফলকে ঐ গবেষকের গবেষণা কর্মের total citation number বলে। total citation number নির্ণয়ে self-citations গণনায় না আনাই শ্রেয় বলে আমি মনে করি।
 impact factor: কোনো জার্নালের ২০১৮ সনের impact factor=A/B, এখানে A হলো ২০১৭ সনে ঐ জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধের total citation number এবং B হলো ২০১৭ সনে ঐ জার্নালে সর্বমোট প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা।
 impact point: “কোনো গবেষকের impact points 30” এর অর্থ হলো ঐ গবেষকের সকল গবেষণা কর্ম যে ভিন্ন ভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, ঐ সকল জার্নালের impact factor এর যোগফল 30।
 h-index: “কোনো গবেষকের h-ইনডেক্স 20” তার অর্থ হলো ঐ গবেষকের সকল গবেষণা কর্মের মধ্যে কম পক্ষে ২০টি গবেষণা প্রবন্ধের প্রতিটি কম পক্ষে ২০ বার করে cited হয়েছে।
 i10-index: “কোনো গবেষকের i10-ইনডেক্স 50” তার অর্থ হলো ঐ গবেষকের সকল গবেষণা কর্মের মধ্যে কমপক্ষে ৫০টি গবেষণা প্রবন্ধের প্রতিটি কম পক্ষে ১০ বার করে cited হয়েছে।

আমি মনে মনে করি, আমাদের শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের world class research করতে বা করাতে স্ব-স্ব গবেষণা ক্ষেত্রের জার্নাল গুলোর মান (Thomson Reuters কর্তৃক নির্ণীত impact factor) এবং পৃথিবীর অন্যান্য গবেষকদের গবেষণা কর্মের তুলনায় নিজের গবেষণা কর্মের মান (তাঁর যে কোনো গবেষণা কর্মের citation সংখ্যা, মোট citation সংখ্যা, impact point, h-index ও i10-index) জানাটা অতি জরুরি বলে আমি মনে করি। আমার মূল কথা হলো: বিশ্ববিদ্যালয়ে world class research করার পরিবেশ গড়ে তুলতে, আমাদের শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামতে হবে, এবং সেই সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামাতে হবে।

ছয়।।
একজন গবেষক/শিক্ষক নিজে যেমন স্বার্থক, সফল ও অর্থবহ জীবনের স্বপ্ন দেখে এসেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর শিক্ষার্থীদের তাঁর নিজের চেয়েও অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখাতে হবে, সেই সঙ্গে সেই বড় বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথও দেখাতে হবে। একজন গবেষক/শিক্ষককে তার গবেষনা কর্মে/শিক্ষকতায় সর্বদা সৎ ও আন্তরিক থাকতে হবে যেহেতু তিনি সত্য ও সুন্দর সন্ধানে, সেই সঙ্গে শুদ্ধ ও আকর্ষণীয় পাঠদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমরা বড় বড় থিসিস অথবা অনেক গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশ করার চেষ্টা করে থাকি, কিন্তু existing literature এ অর্ধেক বাক্য যোগ/বিয়োগ করাই যথেষ্ট আমাদের স্ব-স্ব গবেষণা ক্ষেত্রে একটি বিশাল জায়গা করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু কোন গবেষণা কর্ম আমাদের এ অর্জন এনে দিবে, তা আমরা নিজেরাও জানি না।

আমাদের একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না যে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে চোখ ভুলানো অট্টালিকা বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের একমাত্র নিয়ামক নয়। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের অন্যান্য জরুরি নিয়ামক গুলু হলো:
 সময়-উপযোগী বিশ্বমানের গ্রন্থ এবং গবেষণাগার (যা সর্বদা সচল থাকবে, যেহেতু আমাদের দেশের সিংহভাগ গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি দীর্ঘকাল/চিরকাল অচল অবস্থায় পরে থাকা আমাদের গবেষণার একটি বড় প্রতিবন্ধক) প্রতিষ্ঠিত করা;
 শানিত মস্তিষ্ক ও সময়-উপযোগী জ্ঞানের অধিকারী নবীন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা (এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়কে দৃঢ়ভাবে আপোষহীন থাকা একান্ত বাঞ্চনীয় বলে অন্তত আমি মনে করি);
 নবীন শিক্ষকদের ও সময়-উপাযোগী/বিশ্বমানের গবেষণা ও পাঠদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করে বিশ্বমানের গবেষণা ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করা;
একটি বিশ্বমানের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে উপাচার্যের ভূমিকা অপরিসীম। আমার ২৭ বৎসরের গবেষণা/শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ভূমিকার উপর আমার নিজেস্ব কিছু কথা শেয়ার করছি:
 অধিকাংশ উপাচার্যই চান তাঁর নেতৃত্বে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠুক একটি বিশ্বমানের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর চারপাশ বেষ্টিত বেশ কিছু স্বার্থান্নেষী চাটুকারদের জন্যে তিনি তা করতে পারেন না।
 এই স্বার্থান্নেষী চাটুকারদের দল যদি কোনোভাবে সুন্দর মনের একজন উপাচার্যকে অনিয়ম/ দুর্নীতিতে জড়িয়ে ফেলতে পারে, তিনি চাইলেও আর তাদের দল থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না, যেমন সহজে পারে না ডাকত দল থেকে বিবেক দ্বারা তাড়িত একজন ডাকত দলের সদস্য।
 স্বার্থন্নেষী চাটুকারদের দল থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ একজন উপাচার্য একের পার এক অনিয়ম/দূর্নীতি করতেই থাকেন, তখন তাঁর চারিপাশের ভাল মানুষদের ভাল পরামর্শও আর ভালো লাগে না, ফলশ্রুতিতে তাঁর পাশ থেকে ভাল মানুষগুলি ধীরে ধীরে বিদায় নিতে থাকেন। আমার মতে, একটি বিশ্বমানের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রত্যয়ে ভাল মানুষগুলি উপাচার্যর পাশ থেকে বিদায় নেয়া সমস্যার সমাধান নয়, বরং উপাচার্যর আরও কাছে থেকে স্বার্থানেষী (অর্থ/ক্ষমতা লোভী) চাটুকারদের মুখোশ খুলে দিয়ে তাদেরকে উপাচার্যর পাশ থেকে সরিয়ে দেয়াই প্রকৃত সমস্যার সমাধান।

আমার স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নাই যে আমার প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপক্ষে ৮০% নবীন শিক্ষকই অত্যান্ত মেধাবী ও শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু নিয়োগ কর্তারা অতি অভিজ্ঞ আম বিক্রেতাদের (যাদের কাজ হলো প্রতি পাঁচটি আমের মধ্যে কমপক্ষে একটি করে পচাঁ আম ঢুকিয়ে দেয়া) মত প্রতি চার/পাঁচজন যোগ্য মেধাবী শিক্ষকের সাথে একজন করে অযোগ্য শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দান করেন। একটি পচাঁ আম নিয়ে আমার যত না মাথা ব্যাথা, তার চেয়ে অনেক বেশি মাথা ব্যাথা এই জন্যে যে একটি পচাঁ আম বাকি আমগুলোও পঁচিয়ে ফেলতে পারে যেহেতু ব্যাধি সংক্রামক, কিন্তু স্বাস্থ্য সংক্রামক নয়।

একটি বিশ্বমানের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে নবীন শিক্ষকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ। কারণ অধিকাংশ বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীরাই তাঁদের বড় বড় গবেষণা কর্ম তাঁদের ২৫ থেকে ৪৫ বৎসর বয়সেই করেছেন (যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা স্বীকৃতি অনেক পরেই পেয়েছেন), যেমন Thomson তাঁর ৪১ বৎসর বয়সে (১৮৯৭ সনে) electron আবিস্কারের জন্যে ৫৩ বৎসর বয়সে (১৯০৯ সনে) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন; Rutherford তাঁর ৩৩ বৎসর বয়সে (১৯০৪ সনে) মূলত and radiation আবিস্কারের জন্যে ৩৭ বৎসর বয়সে (১৯০৮ সনে) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন; Einstein তাঁর ২৬ বৎসর বয়সে (১৯০৫ সনে) photo-electric effect এর কোয়ান্টাম ব্যাখ্যার প্রদানের জন্যে ৪২ বৎসর বয়সে (১৯২১ সনে) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন; Bohr তাঁর ২৮ বৎসর বয়সে (১৯১৩ সনে) Bohr atom model প্রদানের জন্যে ৩৭ বৎসর বয়সে (১৯২২ সনে) নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, ইত্যাদি।

সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা আমাদের সোনার বাংলার মেধাবী ছেলে/মেয়েরা
উচ্চ শিক্ষা/গবেষণার জন্য বিদেশ গিয়ে গবেষণার উপযুক্ত সুযোগ ও পরিবেশ পেয়ে এমন ভালো ভালো কাজ করছে, তা শুধু তাদেরকেই স্বনাম ধন্য করছে না, ধন্য করছে আমাদের, ধন্য করছে আমাদের বাঙালি জাতিকে। আমাদের এই মেধাবী ছেলে/মেয়েদের অনেকেই দেশে ফেরছে, আবার অনেকে দেশে ফেরছে না। স্বদেশে নিয়োগে অনিয়ম/অবমূল্যায়নের অভিযোগ ছাড়াও তাদের দেশে না ফেরার পিছনে অনেক যুক্তি রয়েছে। সে যুক্তিতে আমি যাচ্ছি না। দেশে ফেরার জন্যে আমার একটিই যুক্তি: ধরা যাক, একটি শিশুকে একদিকে ছেড়া কাপড় পড়া তার হত-দারিদ্র মা হাত বাড়িয়ে ডাকছেন, অন্যদিকে বিশ্বসুন্দরী (যেমন ঐশ্বরিয়া রায়) হাত বাড়িয়ে ডাকছেন- শিশুটি কার কাছে যাবে এবং কেন যাবে? আমার বিশ্বাস, ছেড়া কাপড় পড়া তার হত-দারিদ্র মার কাছেই যাবে। কারন নিজের মায়ের কোলই তার সবচেয়ে প্রিয় এবং নিরাপদ জায়গা। সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা আমাদের এই মাতৃভূমি কি মায়ের কোলের মত আমাদের সবচেয়ে প্রিয় এবং নিরাপদ জায়গা নয়? পৃথিবীতে আছে কি এমন কোনো জায়গা যা আমাদের মাতৃভূমির চেয়েও বেশি প্রিয় এবং নিরাপদ?

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একজন আত্মউৎস্বর্গকৃত গবেষক/শিক্ষক তাঁর আত্ম-উৎস্বর্গের স্বীকৃতি কোনো না কোনো এক রুপে, কোনো না কোনো একদিন অবশ্যই পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা (যা আমার পেশা থেকে নেশাতে পরিনত হয়েছে) নিয়ে আমার না বলা অনেক জমাট বাঁধা কথাই আমার হৃদয়ের কথা, আমার ভালোবাসার কথা। এ জন্যেই আমার এ লেখা যা কোনোভাবেই কাউকে কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। তারপরও আমার এ লেখায় কোনোভাবে কেউ কোনো কস্ট পেয়ে থাকলে, আমাকে ক্ষমা করবেন।

লেখকঃ অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।