পাহাড়ের দেশ লেবানন

সুমন আহমেদ ঃ

আমি ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। অজানাকে জানার- নতুনকে জানার প্রবল ইচ্ছে আমার ভেতর। একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম লেবানন ভ্রমণে যাবো। আমার এক দূর সম্পর্কের বড় ভাই দীর্ঘদিন যাবত থাকেন লেবাননে। নাম আব্দুল মান্নান। আমি তাঁকে মান্নান ভাই বলে ডাকি। আমাকে রিসিভ করতে এয়ারপোর্টে আসেন মান্নান ভাই। এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে রওনা দিলাম মান্নান ভাইয়ের সাথে। তিনি থাকেন তারাবোলুছ, এটি লেবাননের একটি শহর। দীর্ঘদিন সেখানকার একটি প্লাস্টিকের ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। মান্নান ভাইসহ পাঁচজন বাঙালি কাজ করেন সেখানে। আল-মামুন, ইমন, রকিবুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম। সবার সাথে পরিচিত হলাম। জানতে পারলাম তাঁদের মাসিক বেতন বাংলাদেশি টাকায় ৩৩ হাজার টাকা। পরদিন বরফ-ঢাকা পাহাড়ের অপরূপ লেবানন দেখতে বের হলাম। যতো দেখছি, আমার দৃষ্টি আটকে যাচ্ছে মোহময় সৌন্দর্যে।
উত্তরে সিরিয়া, দক্ষিণে প্যালেস্টাইন আর সাগরের পাড়ে স্বমহীমায় নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে অবস্থান করছে পাহাড়ময় দেশ লেবানন।

উঁচু-উঁচু পাহাড়ের উপর বিশাল বিশাল অট্টলিকা, সেখানেই জনবসতি। পাহাড়জুড়ে আঁকাবাঁকা-চড়াই-উৎরাই পিচঢালা সাপের মতো রাস্তা। তাঁদের মূল সংস্কৃতি আরব্যদের মতোই। ভাষা আরবি, স্বাধীন চেতনায় বিশ্বাসী আর গণতান্ত্রিক। এদেশে মুসলমানদের পাশাপশি খ্রিস্টানদের বসবাস রয়েছে। তবে, ২০ বছর আগের লেবাননের সাথে এখন বেশ পার্থক্য রয়েছে। লেবানন এখন রূপান্তরিত এক দেশ। নারী-পুরুষের পোশাকের ভেদ বেশি দেখা গেলো না।মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে বিশেষ বাহ্যিক আচরণ দেখা গেলো না। অনেকটা ইউরোপীয় রীতি-নীতি অনুসরণ করছে বলে মনে হলো।
শীতকালে হাড়-কাঁপানো শীত পড়ে এখানে। অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং সেই সাথে শিলাবৃষ্টি, বরফ-ঢাকা পাহাড়। আর গরমকালে সবসময় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিদ্বেষ নেই আছে ইসরাইল বিদ্বেষ। প্যালেস্টাইনের অসহায় মুসলমানদের উপর নিরন্তর অত্যাচার-নিপীড়নের প্রতিবাদ জানাচ্ছে রাস্তায়। সাধারণ মুখ, মুখে স্লোগান, হাতে প্লাকার্ড, কেউ কাঁদছেন। তারপর, আবার হাঁটতে শুরু করলাম আমরা। তারাবোলুছ ঘুরে-ঘুরে দেখছি। আকাশের সাথে মাটির পৃথিবীর এই মানুষগুলো যেনো দারুণ মিতালী গড়েছে। সমতলে শহর, পাহাড়ে শহর, মানুষ সত্যি কী না পারে! এতো সুন্দর মানুষের শহর দেখে সেদিন ভেবেছি- আমাদের প্রতিটি শহর এমন সুন্দর হোক, হোক মানুষের শহর। সবাই যেখানে নিরাপদ থাকবে, শান্তিতে থাকবে।