ডায়াবেটিস নিয়ে জানেন কি?

আদিবা ইসলাম

বতর্মানে বিশ্বে ৪২২ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। ২০১৬ সালের জরিপ অনূযায়ী ১.৫ মিলিয়ন মারা যায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬০৬০ জন পুরুষ এবং ৪৭৬০ জন মহিলা মারা যায় ডায়াবেটিসের কারণে।এই রোগটি দীর্ঘমেয়াদি বিপাক জনিত রোগ বা হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। আমাদের চারপাশে কম বেশি অনেকেই এ রোগে ভোগছে।

কেন হয় ডায়াবেটিসঃ

আমরা সারাদিন যেসব খাবার খাই তা পরিপাক্বের পর অধিকাংশ রক্তে মিশে যায়। তখন দেহযন্ত্র অগ্নাশয় যদি যথেষ্ঠ ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে বা শরীর যদি ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয় তাহলেই এ রোগ হয়। মোট কথা ইনসুলিনের ঘাটতিই এ রোগের মুল কারণ।

ডায়াবেটিসের ধরণঃ

ডায়াবেটিস মুলত দুই ধরণের হয়ে থাকে, একধরণের ডায়াবেটিস এ অগ্নাসয়ের ইনসুলিন নিঃস্বরনকারী কোষগুশো ধ্বংস হয়ে যায়। এদের দেহে ইলসুলিন উৎপাদন কম হয়। এজন্য রোগীকে বেচে থাকার জন্য ইলসুলিন নিতে হয়। অন্যদিকে আরেক ধরণের ডায়াবেটিস হল ইনসুলিন নিরপেক্ষ ডায়াবেটিস।এ ধরণের ডায়াবেটিস রোগীদের শরীর যথেষ্ট ইনসুনলিন ব্যবহার করতে পারে না।ব্যয়াম ও খাদ্য বিধির মাধ্যমে একে মোকাবেলা করতে হয়। তবে অনেক সময় মূখে খাওয়া ঔষধ বা ইনজেকশন এর প্রয়োজন হয়।

ডায়াবেটিস এর আলামতঃ

* ঘন ঘন পেশাব
* অধিক তৃষ্ণা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া।
* অতিশয় দূর্বলতা
* সার্বক্ষনিক ক্ষুধা
* অল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস
* চোখে ঝাপসা দেখা
* ঘন ঘন সংক্রামক
এ রোগে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।এর মধ্যে কিডনি ও বৃক্ষের বিকলতা এরং দৃষ্টি বিচ্যুতি প্রধান কারন। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের জীবন ধারার পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যয়াম, খাদ্য গ্রহণের সচেতনতা এবং অসুখ সম্পর্কে রোগীর প্রয়োজনীয় ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব রোগীদের ইনসুলিন দরকার তাদের নিয়ম মাফিক ইনসূলিন এবং অন্য রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করতে হবে।তবে বতর্মানে এই অসুখ থেকে পরিত্রাণের জন্য এবং দৈনন্দিন ইনসুলিন বা ঔষধ সেবন থেকে মুক্তি পাবার জন্য নানা ধরনের গবেষণা কাজ চলছে।