জিন্দা পার্কে জবিসাস

মামুন শেখ, জবি 
শনিবার  সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে বাসে প্রায়  ঘণ্টা দুয়েক  পথ পাড়ি দিয়ে যখন জিন্দা পার্কের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছিলেন, তখনই এক অন্যরকম শীতলতা আর প্রশান্তি মোহিত করছিল সবাইকে।পুরো পার্কজুড়ে চেনা-অচেনা শতশত প্রজাতির গাছ, সুবিশাল লেক আর পাখির কলতানে মোহনীয় করে তুলেছে সবাইকে।জিন্দা পার্ক; দেখতে অনেকটাই রবীন্দ্রনাথের পল্লী প্রকৃতির স্বপ্নের মতো মনে হয়। ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সবুজ প্রাঙ্গণটিকে পার্ক বলা হলেও এটি মূলত একটি সমন্বিত পল্লী।যা একটি সমাজের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগে বদলে দেওয়ার অনন্য নজির।

গ্রামীণ সৌন্দর্যকে নিংড়ে গড়ে তোলা জিন্দা পার্ক তাই শুধুই পার্ক নয়, এটি একটি সামাজিক কাঠামো। এখানে রয়েছে স্কুল, কবরস্থান, মসজিদ, লাইব্রেরি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ নানা নাগরিক সুবিধা।বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ৩০০ ফুটের রাস্তা ধরে এই পার্কটিতে যেতে হয়। পূর্বাচলের দিকে গিয়ে হাইওয়েতে উঠতে হয়।

জানা গেল, গাঁয়ের নামটি জিন্দা গ্রাম, জিন্দা গ্রামেই পার্কটি গড়ে উঠেছে যৌথ উদ্যোগে। শুনলাম এই জায়গাটা নারায়ণগঞ্জের শেষ প্রান্ত। ঢাকা শহর দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে বলে বাইরে ও দূরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ পেলেই চনমন করে ওঠে মন। প্রথমটায় মনে হচ্ছিল কাছাকাছি কোথাও যাওয়া হচ্ছে আমাদের, পরে বোঝা গেল জায়গাটির দূরত্ব যথেষ্টই, ঘণ্টা দুয়েকের কাছাকাছি লাগল পৌঁছাতে। অরণ্য পরিবৃত সুন্দর এক জায়গায় জিন্দা পার্কটি। কিছু কিছু দালানকোঠা দেখে বোঝা গেল এখানে আরও অনেক কিছু গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। লেক ও গাছপালা দেখে আমাদের মন ভরে গেল খুশিতে। সেখানে গাছগাছালির মধ্যে চারপাশ-খোলা একটি রেস্তোরাঁ। এখানে দুপুরের খাবার খেলাম আমরা। জলাভূমিও আছে চারপাশে। বাঁশের সাঁকোও আছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার। ঢাকা শহরের এত কাছে এমন একটি জায়গা থাকতে পারে কল্পনা করা যায়নি। অনেক রকমের গাছ, কারও তেমন চেনা নেই। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ নাম বলে দিলেন। চা খাওয়া হলো একবার। এক জায়গায় বসে আড্ডা হলো। টেপ রেকর্ডার থেকে গান শোনা হলো, খালি গলায় দু-একজন গাইলেন।

এমন জায়গায় এলেই না ‘আহা, কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’ গেয়ে উঠতে ইচ্ছা করে বা নিজের পছন্দের কোনো গান।পার্কের ভেতরে অভিনব ধরনের একটি সুউচ্চ লাইব্রেরি-ভবন।সর্বোচ্চ তলায় উঠে গেলাম আমরা। সারা শহরের ছবি তোলা, দেখা হলো। নিজেদেরও ছবি তোলা হলো। আহা, অনেক অনেকক্ষণ সেখানে বসে থাকার ইচ্ছা হলো। কারণ, রোদ পড়ে এসেছে, ঝিরিঝিরি হাওয়া। এই ভবনে একটি গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হয়েছে দেখা গেল। মনে হচ্ছিল এত উঁচুতে বসে বই পড়তে নিশ্চয় ভালো লাগবে, হাওয়া খেতে খেতে। বেশ কিছুক্ষণ আমরা এই উঁচু প্রাসাদটির সর্বোচ্চ তলায় কাটালাম। তারপর নামতে লাগলাম। আবারও চা, বিস্কিট খাওয়া হলো, আইসক্রিম খেলাম কেউ কেউ। আবারও আড্ডা এদিক-সেদিকে বসে। যন্ত্রে গান শোনা, উৎসাহী গায়কের গান গেয়ে ওঠা। আনন্দ উৎসব শেষে রাত ৮টার সময়  ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্য রওনা হলাম। ক্যাম্পাসে আমরা যখন  পৌঁছালাম তখন রাত ১০.৩০টা বাজে। 

28 Shares