ছবির কারিগরদের আসর

আদীব আরিফ।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি প্রেমিদের একটি প্লাটফর্ম।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্য এবং এর পাশাপাশি দেশের সংষ্কৃতি ও মানুষের জীবনবোধ ছবির মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য আমরা কিছু শিক্ষার্থীরা মিলে এই ক্লাবটির যাত্রা শুরু করেছিলাম।সেলিম আল দ্বীন মুক্তমঞ্চে ২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর একমিটিং এর মাধ্যমে আমাদের পথচলা শুরু। বলছিলেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. হাবিবুর রহমান।প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা আরো হলেন মো.রাশেদুর রহমান, ইপশিতা হুমায়রা, শাওন জোয়াদ্দার, মো. রফিকুলইসলাম, মুজতবা রাব্বানি, তৌহিদ তুষার, রাশেদুল ইসলাম রাব্বি, তানুজা তানমিম, আশিস দত্ত, শারিক হাসান ও নাসিম ফেরদৌস।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে ফটো আড্ডা, ফটোওয়ার্ক করতাম।প্রতি তিনমাস অন্তর মোট ১০ বার “ফ্রেম দ্যা সিজন” নামে মোবাইল ফটোপ্রদর্শনী, তিনবার জাতীয় পর্যায় “কালার্স অব লাইফ নামে” ফটোপ্রদর্শনী ও একবার “স্টেপ আউট” নামে শিল্পকলা একাডেমিতে ছবিপ্রদর্শনের আয়োজন করেছি।একবার আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফটোএক্সিবিশন ও নতুন ফটোগ্রাফারদের জন্য পাঁচাটি ফটো কর্মশালায় প্রায় ১৫০ জনকে প্রশিক্ষন দিয়েছি।এছাড়া ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে তিনবার ফটোট্যুর সোনারগাঁও, গাজিপুর সাফারিপার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেনে ও একবার মেগা ট্যুর কুয়াকাটা ভ্রমণের আয়োজন করেছি।বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশে পাশে সদস্যদের নিয়ে চারবার বনভোজনের ও আয়োজন করেছি আমরা।ক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে বললেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বর্তমান ক্লাবের ছাত্র উপদেষ্টা রাশিদুল ইসলাম রাব্বি।

ইতোমধ্যে ক্লাবের সার্বিক সাফল্যের জন্য বিজয় ফাউন্ডেশন কর্তৃক “বেস্টইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৬” অর্জন করেছি আমরা।আমাদের বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টা রাশেদুল ইসলাম রাব্বি এবার “ইউএন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি-২০১৭” তে বিশ্বে সেরাদশ ছবির একটিতে নির্বাচিত হয়েছিল।ক্লাবকে আরো গতিশীল ও নতুন ফটোগ্রাফারদের ছবিরমান উন্নয়নের জন্য বর্তমানে ২০জন কার্যকরি সদস্যসহ প্রায় ৮০ সদস্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।ক্লাবের অর্জন নিয়ে বলছিলেন ক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী তৌকির আহমেদ তারেক।

ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নিয়াজ মোরশেদ আবির বলেন, ক্লাবের সদস্যদের জন্য ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রফি ও মাইক্রো ফটোগ্রাফিতেও আমরা বিশেষ জোর দিয়ে থাকি।এছাড়া ওয়েডিংফটোগ্রাফি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফি করার জন্য আমরা আমন্ত্রণ পেয়ে থাকি।

ক্লাবের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই আমি ক্লাবটির সাথে কাজ করে যাচ্ছি। একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি ছবি তোলা, বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ ও বিভিন্ন আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার দক্ষতা আমি ক্লাব থেকে পেয়েছি।ক্লাব থেকে নিজের অর্জনের কথা বলছিলেন ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইনিস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী তানুজা তানমিম অন্নি।

ক্লাবটির সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত চারজন শিক্ষক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এরা হলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন তুহিন, সভাপতি, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।তিনজন সহকারি অধ্যাপক হলেন সৈয়দ আবু তোয়াব শাকির, ইতিহাস বিভাগ; তানজিনুল হক মোল্লা, ভূগোল ও পরিবেশ; ও মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বাংলা বিভাগ।প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, ফটোগ্রাফাররা গল্পকারের মত। যারা ছবির মাধ্যমে আমাদের দেশের সৌন্দর্য ও জীবনের গল্প বলে এবং আমাদের নির্মল আনন্দ দেয়।পড়াশুনার পাশাপাশি এ ধরনের কাজ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে।ক্লাবটির শুরু থেকেই আমি এর সাথে আছি। ক্লাবটি ফটোগ্রাফি নিয়ে নানা প্রদর্শনী ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে এর মাধ্যমে তারা ফটোগ্রফির আরো উন্নত প্রযুক্তি শিখতে পারে।