ক্যান্সার বিষয়ে কতটুকু জানেন?

আদিবা ইসলাম

ক্যান্সার এখন উন্নত বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারন।বিশ্বব্যাপি  ঘাতক ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা ১৮.৪ মিলিয়ন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৯.৬ মিলিয়ন।এই মৃত্যু ঘাতক ক্যান্সার শুধু যে জন-জীবন গ্রাস করে তা নয় পরিবারের সুখ-শান্তি,অর্থ সব কিছু নষ্ট করে ফেলে।

এই ঘাতক রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে চলে যেতে হল আলি বানাতকে। যিনি অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে বসবাস করতেন। দীর্ঘ ৩ বছর তিনি মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করেন এবং মৃত্যুর আগে পৃথিবীর সুবিধাবঞ্চিত মুসলিমদেরকে সাহায্য করার লক্ষ্যে তাঁর সমস্ত অর্থ-সম্পদ দান করে দিয়েছিলেন। তার মৃতু্য শুধুমাত্র তার জীবনকেই নিয়ে যায়নি, কেড়ে নিয়েছে পরিবারের সুখকেও।

ক্যান্সার কি?
ক্যান্সার হল অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন এবং অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি। আমাদের শরীরে নির্দিষ্ট সময় পরপর কোষের সৃষ্টি হয় আবার মারা যায়। কিন্তু কখনও কোন কারনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষগুলো বাড়তে থাকে এবং ত্বকের নিচে মাংসের দলা দেখা যায়। যা টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগনান্ট হতে পারে। এটাই ক্যান্সের সূত্রপাত।

১00টির ও বেশি ক্যান্সার কোষ হতে পারে।এই ক্যান্সার কোষের কোন ধারাবাহিকতা নেই।এটি একটি পর্যায়ে অন্যান্য কোষ ভেদ করে রক্ত,লসিকাতন্ত্র ও অন্যান্য দূরবর্তী কলায় ছড়িয়ে যেতে পারে।
মুলত ক্যান্সার কেন হয় তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।তবে বলা হয়ে থাকে উত্তরাধিকার সূত্রে বংশগত ত্রুটির জন্য ৫-১০% হবার সম্ভবনা থাকে। বয়সের বৃদ্ধির সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।এছাড়াও জীবনযাত্রার সাথে ক্যান্সারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে ধারণা করে গবেষকরা।

যেমন : ধুমপান,মদ্যপানের ফলে ফুসফুস,মুখ,কন্ঠনালি এবং লিভারের আক্রান্তের সম্ভবনা থাকে। আবার পান সুপারি, জর্দা, মাংস, অতিরিক্ত লবন ও চিনি ইত্যাদি খাবারের সাথেও ক্যান্সের সূত্রপাত রয়েছে।যারা শারীরিক পরিশ্রম কম করে তাদেরও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। জাহাজ তৈরির কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের এসবেস্টের ধাতুর সংস্পর্শে আসার ফলে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়।একই ভাবে রংএর কারখানা, রাবার গাছের সাথে যারা জড়িত তারা এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসার ফলে তাদের মুত্রথলিতে ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়।

ক্যান্সারের নানা ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়

যেমন-
খুব ক্লান্তি বোধ করা।
ক্ষুধা কমে যাওয়া
শরীরের যে কোন স্থানে চাকা বা দলা দেখা দেয়।
অস্বাভাবিক ওজন কমে যায়
অস্বাভাবিক রক্তপাত হয়
ত্বকের পরিবর্তন হয়
মানসিক অশান্তি ইত্যাদি

ক্যান্সার চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। যেমন- অস্ত্রপাচারে যে জায়গাটি ক্যান্সার আক্রান্ত হয় সেটির ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো বা আশেপাশের আক্রান্ত কোষগুলো অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়। তবে এটি প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য।হরমন থেরাপিতে কিছু হরমনের মাত্রা পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া আরও অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার নিরাময়ের চেষ্টা চলছে

এ ক্যান্সার থেকে পরিত্রাণ এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টাও চলছে। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কিছু চার্ট মেনে চললে এটির অনেকটা ঝুঁকি কমান সম্ভব।প্রতিদিন নিয়মিত সাইকেল চালানো, দৌড়নো, হাটা ইত্যাদি মেনে চলতে হবে। ধুমপান, মদ্যপান অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। পান-সুপারি, তামাক, জর্দা খাওয়া বাদ দিতে হবে।সম্ভব হলে মাংস খাওয়া কমাতে হবে।প্রচুর পরিমাণে রঙিন শ্বাকসবজি ও ফল-মূল খেতে হবে।তাছাড়াও নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

70 Shares